:

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: ইসরায়েলে ইরান ও হুতিদের ব্যাপক হামলা

top-news

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। দীর্ঘদিনের ছায়া যুদ্ধ ছাপিয়ে এখন সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে ইরান ও ইসরায়েল।

সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলের অভ্যন্তরে একাধিক ‘সংবেদনশীল’ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। জবাবে ইসরায়েলও বড় ধরনের যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।

 ইরানের ‘প্রতিশোধ’ ও আইআরজিসি-র দাবি: ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও আইআরজিসি নিশ্চিত করেছে যে, তারা ইসরায়েলের অভ্যন্তরে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

ইরান দাবি করেছে, তাদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পাঞ্চলে আঘাত হেনেছে।

 আইআরজিসি-র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের দুটি প্রধান বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। ইরান একে তাদের ওপর হওয়া পূর্ববর্তী অন্যায়ের ‘বদলা’ হিসেবে দেখছে।

ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিরা এই হামলায় সরাসরি সংহতি প্রকাশ করেছে। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে: অধিকৃত জাফা অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর সংবেদনশীল অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।

 হুতিরা লোহিত সাগরে ইসরায়েলি মালিকানাধীন বা ইসরায়েলগামী সব ধরনের জাহাজ চলাচলের ওপর পূর্ণ ও সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তারা জানিয়েছে, গাজা, লেবানন ও ইরানের ওপর চালানো অন্যায্য অবরোধের মুখে তারা আর নীরব থাকবে না।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইয়েমেন থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্রটি তারা শনাক্ত করতে পেরেছে এবং তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরায়েল দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে:

ইসরায়েলি সেনা রেডিও জানিয়েছে, বড় পরিসরে রিজার্ভ ব্যাটালিয়নগুলোকে সক্রিয় করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম তীর ও জর্ডান সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন করা হচ্ছে।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইরানের সাথে এই পাল্টাপাল্টি হামলা কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিরাপত্তা-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডেকেছেন।

‘দ্য টাইমস অব ইসরায়েল’ জানিয়েছে, পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় অল্পসংখ্যক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের নিয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এখানে পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অগ্নিকুণ্ডের ওপর দাঁড়িয়ে। ইরান, হুতি এবং হিজবুল্লাহর সমন্বিত চাপের মুখে ইসরায়েল তার পূর্ণ শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে যে, এই সংঘাত আঞ্চলিক যুদ্ধের গণ্ডি পেরিয়ে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, টাইমস অব ইসরায়েল ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *